‘রোবট’ হলান্ডকে যেভাবে ‘মানুষ’ বানিয়েছেন ফন ডাইকরা

‘রোবট’ হলান্ডকে যেভাবে ‘মানুষ’ বানিয়েছেন ফন ডাইকরা

আর্লিং হলান্ড তাইলে ‘অতিমানব’ কিংবা ‘রোবট’ নন? এক ম্যাচেই অবশ্য এমন সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। টানা ৭ লিগ ম্যাচে গোল এবং অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে এসব বিশেষণ কিছুদিন ধরে নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন হলান্ড। এক ম্যাচে গোল না পাওয়ায় এসব কেড়ে নিতে চাওয়া অন্যায় হবে।

তবে হলান্ডকে যে আটকানো সম্ভব, সেটা প্রমাণ করেছেন ভার্জিল ফন ডাইক, জো গোমেজ, আলিসন বেকাররা। গতকাল রাতে লিভারপুল ডিফেন্স লাইনের তৈরি করা কল থেকে শেষ পর্যন্ত বেরই হতে পারেননি হলান্ড।

লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যান সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা হয়তো কিছুটা অতি আত্মবিশ্বাস নিয়েই এসেছিলেন। নিজের ফরোয়ার্ড লাইনের ওপর অতিরিক্ত আস্থা এবং লিভারপুলের সাম্প্রতিক দৈন্যদশার কারণেই সম্ভবত তিনজন ডিফেন্ডার ও পাঁচ মিডফিল্ডার নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন।

তবে গার্দিওলার আস্থার প্রতিদান সেভাবে কেউই দিতে পারেননি। সম্প্রতি অবিশ্বাস্য গোল স্কোরিং দক্ষতা দেখানো সিটির আক্রমণভাগকে রীতিমতো বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন লিভারপুল ডিফেন্ডাররা।

রক্ষণে জমাট দেয়াল তৈরি করে হলান্ড-ফোডেনদের শ্বাস নেওয়ার জায়গাও দেননি ফন ডাইক-গোমেজরা। এমনকি ৩৬ বছর বয়সী জেমস মিলনারও নিজের জায়গা বদলে ডিফেন্সে নেমে খেলেছেন দুর্দান্ত। বিশেষ করে ফোডেনকে চুপ করিয়ে রাখতে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন এই ইংলিশ তারকা। আর লিভারপুল ডিফেন্সের ফাঁদ এড়িয়ে সিটি যে সুযোগগুলো তৈরি করেছিল, সেগুলো ঠেকানোর জন্য গোলবারের নিচে দুর্দান্ত অ্যালিসন তো ছিলেনই।

প্রথমার্ধে হেড থেকে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। তবে অ্যালিনসের বাধা পেরিয়ে সেটি গোলের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেনি। আর দ্বিতীয়ার্ধে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান আলিসন।

মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচে ১৫ গোল করা হলান্ড ম্যাচে সব মিলিয়ে শুধু ৬টি শটই নিতে পেরেছিলেন। ৪ বার পা থেকে বল হারিয়েছেন। আর ডিফেন্সিভ দ্বৈরথে হেরেছেন ৬ বার। তবে লিভারপুলের বিপক্ষে এ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও পারেননি এই নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।

হলান্ডকে থামানো নিয়ে লিভারপুল তারকা ফন ডাইক বলেছেন, ‘এটাই ডিফেন্ডারদের করতে হবে, চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতি ম্যাচেই এটা করতে হবে। একটু এদিক–সেদিক হলেই কিন্তু তারা আপনাকে শাস্তি দেবে। আমরা খুব ভালোভাবেই সেটা করতে পেরেছি। গোল না খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং আমরা এখন ওয়েস্ট হাম ম্যাচে মনোযোগ দিচ্ছি।’

সিটিকে থামানো মোটেই সহজ ছিল না। হলান্ড-ফোডেনদের আগ্রাসী ফুটবল থামাতে প্রতিমুহূর্ত সতর্ক থাকতে হয়েছে লিভারপুল ডিফেন্সকে। এ নিয়ে ফন ডাইক আরও বলেছেন, ‘প্রচুর দৌড়াতে হয়েছে এবং নিজেদের মাঝে সমন্বয় ঠিক রাখতে হয়েছে। তিন পয়েন্ট পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা বেশ চাপের হয়ে থাকে। কয়েক বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে।’

নিজেদের ডিফেন্ডারদের কৃতিত্ব দিতে গিয়ে ক্লপ বলেছেন, ‘আমাদের ডিফেন্সিভ লাইন নিশ্চিতভাবে এ মৌসুমের সেরা ম্যাচটি খেলেছে। এটা খুবই ভালো ছিল। টাইমিং ছিল নিখুঁত। এভাবেই আমাদের রক্ষণ সামলাতে হবে।’