কত দেশের উপকূল ডুবে যেতে পারে

কত দেশের উপকূল ডুবে যেতে পারে

যে হারে বায়ুমণ্ডলে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন গ্যাস বা সহজ ভাষায় কার্বন নিঃসরণ ঘটছে, এর ফলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হয়তো ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ডুবতে থাকবে। চট করে চোখে পড়বে না। কিন্তু ধরা যাক ১০০

বছর পরের চিত্রটি কী রকম হতে পারে? সেটা হিসাব করলেই বুঝতে পারব আমরা কত বড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্বের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এখন হিসাব করে দেখছেন, কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়। একসময় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বলত, ও, বাংলাদেশ, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আর বন্যা-বৃষ্টির দেশ! আর আজ দেখি ইউরোপ-আমেরিকা থেকে শুরু করে অনেক উন্নত দেশের বড় বড় শহর আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি বন্যায় ভেসে যায়। এ সবই জলবায়ু পরিবর্তনের আলামত।

হিমালয়ের এভারেস্টসহ বিশ্বের উঁচু পর্বতমালার চূড়ায় জমে থাকা বরফ ও তুষার, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু বা আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকার জমাট বাঁধা বরফ এখন গলতে শুরু করেছে। আমরা কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব সাদাচোখে দেখি না, কিন্তু ঘটনা ঘটে চলেছে। লাইভ সায়েন্সের অনলাইন সংস্করণে সম্প্রতি জো ফেলানের একটি তাৎপর্যপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকস ম্যাগাজিনেও লেখেন। তিনি বলেন, সমুদ্রতলের উচ্চতা খুব দ্রুত বাড়ছে। উচ্চতা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) এক হিসাব অনুযায়ী, গত শতাব্দীতে বেড়েছে প্রতিবছর গড়ে ০.০৬ ইঞ্চি। আর এখন প্রতিবছর গড় বৃদ্ধির হার ০.১৪ ইঞ্চি।

এই সংস্থার অনুমান, আগামী শতাব্দীর শুরুতে পানির উচ্চতা দুই হাজার সালে যা ছিল, তার চেয়ে হয়তো এক ফুট বাড়বে। অন্যদিকে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের এক হিসাব অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১৬ থেকে ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে।