বিতর্কিত প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও চার মডারেটর চিহ্নিত

বিতর্কিত প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও চার মডারেটর চিহ্নিত

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও চার যাচাইকারীকে (মডারেটর) চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক।

অভিযোগ ওঠে, বাংলা প্রথম পত্রের ওই প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক মনোভঙ্গি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও মডারেটরকে খুঁজে বের করার কাজে নামে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই তাঁদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আজ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও মডারেটরদের চিহ্নিত করা গেছে। তাঁরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন কলেজ শিক্ষক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্ন প্রণয়নকারী ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কলেজের একজন শিক্ষক। আর চার মডারেটরের মধ্যে দুজন নড়াইলের দুটি কলেজের এবং বাকি দুজনের একজন সাতক্ষীরার একটি কলেজের এবং আরেকজন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কলেজের শিক্ষক।

গত রোববার অনুষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একটি প্রশ্নের উদ্দীপক (সৃজনশীল প্রশ্নের একটি অংশ) হিসেবে এমন বিষয়কে বেছে নেওয়া হয়, যা খুবই সংবেদনশীল বিষয়। এতে সাম্প্রদায়িক উসকানি রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেও লেখালেখি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গতকাল প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বিদ্যমান নিয়মে পাণ্ডুলিপি ছাড়া তা চিহ্নিত করা যায় না। পাণ্ডুলিপি আছে ট্রেজারি অফিসে। মঙ্গলবার (আজ) সকালে সেখান থেকে পাণ্ডুলিপি এনে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রমতে, সাম্প্রদায়িক ও বিদ্বেষপূর্ণ কোনো বক্তব্য যেন প্রশ্নপত্রে না থাকে, সে জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময়ই লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র দেখার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বোঝা যায় না।

এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় বাংলা-২ (সৃজনশীল) পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। সেখানে একজন কথাসাহিত্যিককে নিয়ে এমনভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে, যাতে তাঁকে হেয় করা হয়েছে, যা মূলত বিদ্বেষপূর্ণ। গত রোববারই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।